Thursday, 23 April 2015

কবিতা


যার বসন্ত তুলে



একটা দিক আর দোলনের আলো থেকে
পাতানো শহরের কাছে

স্নানে আর কিছু নেই জেনেও
প্রতিবেশির বারণগল্প কিছু বর্ষা কুড়োলো
ভাসানো  মেয়ের কোলে

ফসলের বকুল আভাস দেখ
দেওয়ালের ওইপারে
ঋতুদের দখল এসেছে অন্যদেশ ছেড়ে

ওদের ঘরানায়  কিছু কিছু খোলামুখ
এখনো শ্যাওলার নেহাত খুলে  

তারপর আমাদের বুকের আড়াল  

একটা ওড়না সরিয়ে বৈশাখও  
সন্ধ্যার বিদায় জানালো



মুঠোর আগুন ভেসে যাচ্ছে আকাশে
আর  চুলের গন্ধ যখন  সুতো হয়ে এলো

একটা পথ চলে যাচ্ছে শৈশবের দিকে
হেরে যাওয়া মাঞ্জা লাগিয়ে

এই দাগ ঠিক হাসির কথা মনে করায়
আর পিয়ানো বাজিয়ে যাওয়া
                          বাবার ভালবাসা

আমি সন্তান চাইতে পারিনি
শুধু শেষ লাইনটায়......হাসানের ওড়ানো ঘুড়ি


শরীর

শৈশব ধুয়ে গেছে সন্ধ্যায়
বিকেলের ট্রেন আর সূর্য চলে যায়
হারেম ছাড়িয়ে

রমণীর আগাগোরায়
সেই চলে যাওয়া আর ফিরে আসাই
উঠোনে 
পাহারা গুটিয়ে রাখে নাবিক আহ্লাদে

কোন সূর্যাস্ত নেই
জেগে থাকা মনে
শুধু খুলে রাখা সরাইখানা
আর দেখা হয়ে যাওয়া

পায়ের আশেপাশে এটুকুই চোখ    
বাকিটুকু ছায়ায় শোয়ানো










Tuesday, 21 April 2015

চলো পড়াই কিছু করে দেখাই



আবার একটা আদতের দাসত্ব। আবার তারিখ আর রাত পোহালেই উৎসব। পাড়ায় পাড়ায় কৈশোর আর যৌবনের হস্তাক্ষরকে ক্যাশ করে ফিরে ফিরে আসে সেইসব চেনামুখগুলি যাদেরকে ত্যাগ করতেও আজ আমার ক্লান্তি আসে। তবু কিছুতেই কান এর বিরুদ্ধে এখনো যেতে পারছি না। যেতে পারছি না চোখের ওইপারেও।

আমি এখন সারাক্ষণ মোহনভোগ আর সীতাভোগ খাই। মুন্নাভাই লিখি। যারা আমাকে এই ছাড়পত্র দিয়েছে তারাও কেমন যেন মিহি হয়ে গেছে। আর সামান্য চিঠিও। এতবছরে তোমার মনে পড়ল যে আমাদের এতকিছুর পরেও একটা সম্পর্ক ছিল ভালবাসার। যাক তবুতো মনে পড়লো জাতের নামে এই বজ্জাতিটাই করতে গিয়ে।

বাট আমি নিরুপায়। আর ফিরে তাকানোর কোন চান্স নেই। এখন তর্পণ সঙ্গীত আর মহামায়াদের সাথে তোমার সুশীলাদের নিয়ে আমি সমুদ্র সৈকতে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে এসেছি কালো কালি আর আমার আঙুল্গুলি।


কাদের ভাল হবে জানি না।শুধু তোমার ভাল হোক আর তোমাদের এই রঙীণ মাঠে আরো আরো নাটকের দল আসুক নতুন নতুন নাটকের প্যাকেজ নিয়ে

আগুনের আসেপাশে

আগুনের আশেপাশে

এক।।

আমি চিহ্নিত।
আমার আপাদমস্তক জোয়ারের খেলা নিয়ে কোন কথা বলছে না যখন
যাকে রাস্তা বলে ভেবেছি এতদিন সেও গলির মুখে খুলে দেয় আমারই মৃতদেহ
হায় প্রাণ তোমার এই জীবনে আর দেখা  হল না

কিভাবে শহর গ্রাস করে এক একটা গ্রাম কে।
সীমানা ছাড়িয়ে।


দুই।।

অংশত  এই সময় সাবেকি হিসেবগুলো ছাড়ানো খোসার চেয়ে বেশি কিছু না হলেও
বিগত ঘুমের মাঝামাঝি এখনো পড়ে আছে ঘুরে আসা কাচের মেয়েটা
আর ধুয়ে রাখা শরীর।

শোয়ানো আলোর পরে   
অচেনা মানুষজন 
নদীকে ফিরিয়ে দিল দুইভাগ তাকানো রেখে

তুমিতো পায়ের কাছে এই নিয়েই বসে থাক

দেখ সাড়ায় সাড়ায় রোদ এসে 
কেমন শুকিয়ে দিল উত্তর 
বোতামের আপাত বিদায়

তিন।।

এবার অপহরণ।
নিষিদ্ধ রং আর গলির প্রথম
ঘুরে যাচ্ছে পায়ের সামিয়ানা।
পাখিরা জানিয়ে গেল আরেকটা বন্ধ দরজাও।

এইসব টুকরো  নিয়েই শহর ডুবে থাক 
মনে পড়া গানের কথায়।

চার।।

আর 
তাকাতে তাকাতেই  অবসর ঝাপসা হয়ে এলে
কোথাও নিংড়ে নেওয়া খিল্লি থেকে 
কপালের রোদ আজ পানের বরজে

 ঠিক যেন গুঁজে রাখা জন্মদিন।
মেয়েটার পায়ের পাশে বেড়ে রাখা দুপুর  আর 
ভুলে যাওয়া অসুখগুলি।




Saturday, 18 April 2015

তেরে ন্যায়না

এক।।

বারিষ এসেছে আজ দুষ্টু পায়ের সামনে
একটা হাবুডুবু তার কিনার খুঁজছে নিজের অজান্তে।
বার্ডস বসানো ওপেন এন্ডেড মিউজিক এই চাকায় চাকায়।
আর স্কাইপার থেকে সূর্যাস্তের মৃদু শেষ হলে
আবার শুরু হবে দেখে নেবার বাসনা।

বাসিয়া বাসিয়া হয়ে ওঠা চূঁড়ার আসেপাশে বুঝিনি আরেকটা
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়  
আর এই অপরূপ আমি ভাবিতেও পারিনা একটা পাহাড় পেরোতে পেরোতে

অনেক মিথ্যেরা যেন কিভাবে বসিয়ে যায় কিছু কিছু কেড়ে নেওয়া অধিকারও।

তবু পা আর হাড় এর মধ্যিখানে বসে আছ তুমি সমস্ত হারপল নিয়ে...
অনেক ফ্ল্যাশ নিয়ে...খুবসুরত ক্যাম্প-ফায়ার নিয়ে।


     হাঁটছি
                            আরো হাঁটছি
                                                         আরো আরো হাঁটতে হাঁটতে
                                                                              

 কিভাবে ফিক্স হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট হাসিগুলি এই চড়াই উৎড়াই নিয়ে।
আর হাসতে হাসতে নেমে যাচ্ছে কোন একদিন তোমার বক্সা পেরিয়ে।


অনেক অনেক দিন পরের কথা এইসব।
বক্সা জয়ন্তী  রাজাভাতখাওয়া  আর  মহাকাল পেরিয়ে
কালিখোলার জঙ্গল সীমানায় যেদিন সংকোশের সামনে এসে দাঁড়ালাম

তুমি সবুজ অ্যাপ্রোন পড়ে কাছে এসে তাকাতেই
টিনের চাল খুলে ভুটান পাহাড় যেন কানে কানে বলে উঠলো......

শেষ পর্যন্ত দেখা হল তাহলে। দেখা হল তোমার ম্যারিয়ামের সাথে
যার চোখ থেকে আজো নেমে যায় অজানা পাঁকদন্ডী কোথাও।

কেউ তার হিসেব জানে না।জানে না ডিমা নদীটাও যেদিন
অঝোড়ে বৃষ্টি হলে পাহাড়ে  পাহাড়ে লাগিয়ে দেয় ধুম সমস্ত প্রথা ধুয়ে ফেলার
                                                                                                    
            আমাদের প্রিয় এক জঙ্গল নিয়ে

                        একটা ব্রিজ Lohar
                      জঙ্গলের গাছ    Guli
আর সোমরাদের লেবার লাইন Theke

একের পর এক খসে পড়ছে  চা গাছ সব  নতুন নদীটার বুকে
বাসন্তী মধুমতীরাও আমার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের সন্তানদের ডুবে যাওয়া দেখছে আগামীর ধ্বংস  শুনে

এবারে আমরা কিভাবে ওইপারে যাব?
কিভাবে ফিরে আসবে চেনা পাহাড় প্রিয় পাখির হাত ধরে?
শিকারের গান গেয়ে গেয়ে

এ কোন নিছক ছবি আঁকা নয়।

এইসময় আমার বিবাহ জমানা।
যাবতীয় দুঃখ ভুলে বৌকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমার আসন পাতলাম আবার প্রিয় পাহাড়ের কাছে।
কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছে।


দুই।।

 তুমি পাহাড় দেখেছ?

তুমি আগে দার্জিলিং গেছ?

এরকম কিছু প্রশ্ন যখন শুধু না আর না ই বলছে, আমি আবার ১৩ নম্বরের জন্য উচ্ছসিত হয়ে উঠলাম এইভেবে
তাহলে আবার আমরা ঠিক তোমার কাছেই যাবতোমার কুয়াশার কাছে এইতো আমাদের আমরা নিয়ে
সদ্য সেরে ওঠা হোলি আর রং এর অনুবাদ শব্দহীন একনাগার আপাতত কপালের দীর্ঘ আড়ালের পরে

একটা অপরূপ সকাল খুঁজে পেতে চাইবে
একটা ক্যানভাসের কাঁধ বরাবর কিছু চিরকূট রচনায়
যে স্পেস বাঁধা আলোর কথা ভাবছি এখনো


সেখানে কামিজের বুনোহাঁসগুলি সমস্ত আনন্দ গড়িয়ে দিলে


ছবিটার ক্ষরণের দিকে একটা ক্লোজড রাস্তার রিভিউ করতে করতে
তুমি সরে যাচ্ছ ব্রিজ থেকে
দূরের আচমকা পাহাড়ের গায়ে আসছে নদীটার পায়ের বিস্তারে

তখন প্রায় ভোর সাড়ে তিনটে। আমার মেপে নেওয়া ভাঁজের কিনারে
লেগে আছে রাতের আদাব আর গাঢ় শীতের সেই সাইকেল মালিকানা দেখ

ব্যাক হিল করতে শুরু করলো দুহাতের মায়াটার কাছে।
নিজের মত করে আরেকটা হাইওয়ে তৈরী করলাম আমি
একটা ক্যামেরা চাইলাম।
আর নিজেকে গুঁজে দিলাম আশাতীত গানের পর্দায়

বৌ উঠছে।

কনকনে জলের শব্দটা যেন মন্দিরের ঘন্টার মত
ব্রাশের শব্দটা ক্রমশ দেখিয়ে দিচ্ছে বন্‌ধের শুনশান রাস্তাটা আবার
ব্রা-এর দূরপাল্লায় ফিরে দেখা চোখ এল। হাতেও এল কিছু কিছু সাজানো লাইনার

একটা  অসম্পূর্ণ রোজগারের তালিকা ছিল আমার
তুমি সেখান থেকে বাদ দিচ্ছো সূর্যোদয়। বাদ চলে যাচ্ছে

শাঁখায় শাঁখায় বসানো রক্তের
প্রিয় টাইগার হিল.........ও ও

আমরা বেরিয়ে গেলাম। কি অসামান্য চুপি আর নীরবতায়
পাহাড়ের গায়ে গায়ে জেগে উঠলেন সোনার বাউল।

শুরু হল গান আর......

পাহাড়ে  পাহাড়ে  লেগে থাকা  আমার ঈশ্বর

ভো-কাট্টা

সীমানা ছাড়ানো যায় না। শুধু তুলে রাখা যায় ভালবাসা আর ফিরে দেখা। দেশভাগও আমাদের হাঁড়ি ভাগের মত এক নিত্য ঘটনা। মানতে না চাইলেও কোথাও লুকিয়ে ছিল এই সূত্র যার হাত ধরে শব্দ এসেছে আজ এইখানে।

অনেক মানুষ রাতের অন্ধকারে যখন
টপ্‌কে যাচ্ছে তোমার পাচিল
একটা মেঘ ভেসে আছে বাতাসের সাথে।

তবু কোথাও না কোথাও গিয়ে তোমার আরও আরো উড়ে যাওয়া ঘুড়ির আভাস।
আমি প্রজন্ম নিয়ে আসছি যখন

বুটের শব্দের চেয়ে স্তনের শব্দ বেশী করে কানে আসে এবার

হেসে উঠলো বন্দুকের নল
আর হেসে উঠলো ছেলেটাও

আজ বিবাহবার্ষিকী
নাভিতেই যুদ্ধ এঁকে রাখার দিন।