অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকৃত কবিতা কি আমি জানি না। বুঝিও না। শুধু কবিতায় আরোগ্য জানি, জানি নিশ্চয়তার আজকাল। যখন আমার ভেতরে
জড়ো হতে থাকে বিষ্ময় আর ঘোর, ঠিক তখন বিশিষ্টজনের কথাগুলো সব মনে পড়ে যায়, পড়ে যায়
বিশিষ্ট ভাষাবিদদের ভাসানের কথাও।
যারা লুকিয়ে
মাত্রা চুরি করেন
শব্দ চুরি করেন
সিন্ট্যাক্স চুরি করেন
একান্ত সম্ভবনা বোঝাতে বোঝাতে আর ঠিক তখনই কোন
জেলা শহরের মিউনিসিপাল মার্কেটের মস্তক মুড়িয়ে বুকের চারটে বোতাম খুলে একটা মানুষ
বেরিয়ে এলেন যাকে প্রিয় বন্ধুটিরও একজন কবি হিসেবে ভাবতে, বলত, জানতে অসুবিধে
হয়েছিল ওদেরই মত। সেই সময় অনেকটা মস্তানি সামান্য নিজের সাথে নিজের রবীন্দ্র সংগীত আর ইংরেজি সাহিত্য কখন যে
নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছে প্রচুর আগ্রহের ভেতর
কিম্বা খেলার মাঠে বন্ধু বিজয় সমর আর সেইসব
মানুষেরা
যারা অনুবাদযোগ্য একজন
সাপোর্টারকে আগলে রেখেছিল
সে যা চাইতো তাই তাই বন্ধুর
জন্য একটু আধটু করে করে
‘তারপর শুরু হল সেই গল্প
রাতের ঠোঁটে হেঁটে যাচ্ছেন চ্যাপলিন
সিন্দুক থেকে ভেসে আসছে হাততালি
ঘরে নাচছে ফুলদানি
পাতায় পাতায় যতখানি গিয়েছিলাম
ঠিক ততখানি ফিয়ে এসেছি সুতোয় সুতোয়’
এই মনখারাপ সাজাতে। জিভ সাজাতে। সেখানে তা দিতেই
বেরিয়ে এল মুখোশ।মেয়েটার সাথে সাথে উড়ে গেল মস্তানের ঘুড়িটাও।
যেখানে সামান্য রঙ ছিল। ছিল একটু নিজের মত বেঁচে থাকার স্বাধীনতাও।এও এক ভবিতব্য।
আজ মনে হয় এরকম না হলে বোধ হয় আমাদের মার্কেটের মস্তান... সেই আরেক শ্যামলদার মত
শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যেত বাংলা মদের আসরে সর্বাত্মক ধ্বংসের চেনা টুপি পড়ে।
তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ চুমু। তোমাকে অনেক
ধন্যবাদ শীত। যখন শালিক আয়না ভাঙছিল, তোমরা ঠিক টের পেয়েছিলে কিভাবে প্রিয় মানুষটিকে
আগলে রাখতে হবে খানিকটা পড়ে থাকা লাল অক্ষর দিয়ে।
এবার শীত শহরের উঠে আসা শুরু হল। আপেলের কাছে
পৌঁছে গেল হাত। বন্ধুরা দেখল শহর ভিক্ষারি হয়ে উঠছে। এলোমেলো লাইন বানাতে বানাতে
উধাও হয়ে যাচ্ছে ঘোড়া।সকাল জানিয়ে দিচ্ছে রাতের চক্রান্ত আর তুলির চোখ নড়ে উঠতেই
‘আমরা শুনছি ঘাসের জন্ম আর মৃত্যুর কথা’
তবু স্বরলিপি কফিনেই আটকে গেল।কবির কোন কাজ নেই। কবির কোন
হিসেব নেই আরো দশজনের মত। বেড়ার ঘরের পাশে রান্না হচ্ছে ফ্যানাভাত আর বিছানায় আমরা
জেনে ফেলছি
মস্তান কিভাবে বাজাচ্ছে বউ-এর চোখের জল। এসময় বাংলা কবিতার
হয়তো জয়জয়াকার।সাথে কবিদেরও।চারিপাশে তুমুল বিরোধিতার প্রতীক প্রজ্জ্বলন। হায়
গোমস্তাপাড়া তোমার এই ছোট্টঘর কেউ দেখতেই পেল না, শুধু তুমি দেখে নিলে
‘আঙুল খুলে নদীর ভেতর নদী’
তুমি কুড়ালের মত একা দাঁড়িয়ে আছ
একজন অন্ধ
একজন বোবা
একজন কালা
জামবাটিতে কার্ণিশ রোদ। ফায়ারব্রিগেডের জাতীয়
সংগীত ঢুকে যাচ্ছে আততায়ীর দস্তানায়।
একটা বেঞ্চ আর বটগাছ কত কাছে করে দিল পরবর্তী
সময়কে। আর শিশুটি ধীরে ধীরে রাত হয়ে গেল সমস্ত সংহতি ছেড়ে।তুলোর ধর্মান্ধতা
ছেড়ে।কারা যেন বলেছিল কি যেন একটা দলের কথা।মনে পড়ে।বসন্তের শেষে ?
আমরা কিন্তু এখনো নাভিতে কম্পাস লাগিয়েই আছি।আছি
নির্বাসনেও।আমাদের গানের ভিতর পাক খাচ্ছে খুনের মিউজিক।
বটগাছ
থেকে রক্ত পড়ছে
পাঠকের
চোখ ছোট হয়ে আসছে ক্রমশ
চারিদিকে
চুপচাপ সবাই মশাল হাতে
দেখ
আমাদের মস্তান ফিরে আসছে
আমাদের
প্রিয় শ্যামল ফিরে আসছে
কবি শ্যামল
সিংহ হয়ে
এবার ডিম
ছাড়াই চলছে রান্নাঘর।এভাবেই আমরা নির্মাণ করলাম সেতু। শ্যামল সেতু। যেখানে ম্যানিফেস্ট নেই। আছে শরীরের ভেতর দিয়ে বয়ে যায় তিস্তার জল। আর আমরা
প্রণাম শেষে বলি
এসো, পোষাক ছিঁড়ে গান করি
এসো, এইবার বলি
শ্যামল আমাদের স্বজন ছিল। বন্ধু ছিল। কবিও ছিল।
ছিল মস্তানও......
এই লেখাটিতে প্রায় সমস্ত লাইন ও
শব্দ কবি শ্যামল সিংহ এর কবিতা থেকে ধার করা

No comments:
Post a Comment